আলীবর্দি খানের শাসনামল- বাংলার নবাবি শাসনের ইতিহাস (২য় পর্ব)

আলীবর্দি খান ও সিরাজউদ্দৌলার শাসন- বাংলার নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আলীবর্দি খান- আলীবর্দি খানের প্রকৃত নাম মির্জা মুহম্মদ আলী। তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি। ১৭২০ সালে সুজাউদ্দিন তাকে রাজস্ব বিভাগের চাকরিতে নিয়োগ দেন। এই সময়ে তার ভাই হাজী আহমদ উড়িষ্যা আসেন এবং দুই ভাই শাসনকার্যে সুজাউদ্দিনকে যথেষ্ট সাহায্য করেন। সুজাউদ্দিনের বাংলার মসনদ লাভের ব্যাপারে তাঁরা কৃতিত্বপূর্ণ অবদান […]
মুর্শিদকুলী খান, সুজাউদ্দিনের শাসন- বাংলায় নবাবি শাসন (১ম পর্ব)

নবাবি শাসনের ইতিহাস মুর্শিদকুলী খান- আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে মুগল সাম্রাজ্যের অবক্ষয় যখন শুরু হয় তখন স্বীয় প্রতিভা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে সুবাদার মুর্শিদকুলী খান। তাঁর জন্ম দাক্ষিণাত্যের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। হাজী শফি নামে পারস্যের এক ব্যক্তি ছোটবেলায় তাকে কিনে নিয়ে নাম দেন মুহাম্মদ হাদী। হাজী শফির নিকট রাজস্ব বিষয়ে […]
বাংলায় সুবেদারি শাসন (২য় পর্ব)

ইসলাম খান, মির জুমলা ও শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবাদারি স্বর্ণযুগ বলা চলে। নিচে তাঁদের অবদান তুলে ধরা হল- ইসলাম খান মাশহাদি তাঁর পারিবারিক নাম মির আবদুস সালাম; সম্রাট শাহজাহান তাঁকে ‘ইসলাম খান’ উপাধি দেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্তে আসাম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে আরাকান রাজার বিদ্রোহ দমন ছিল তাঁর দায়িত্ব। কামরূপের রাজার ভাই বলী নারায়ণ হাজো প্রদেশের মুঘল […]
ইসলাম খান, কাসিম খান, শাহ সুজা, মীর জুমলা- বাংলায় সুবেদারি শাসন (১ম পর্ব)

বাংলায় সুবেদারি শাসন সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলা মুগল সাম্রাজ্যের একটি সুবায় (প্রদেশ) পরিণত হলেও তখন বাংলায় মুগল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। উত্তর-পশ্চিম বাংলার দুর্গ এলাকায় মুগল শাসন সীমাবদ্ধ ছিল। বাংলার বিখ্যাত জমিদারগণ মুগল শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। যারা বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ইসলাম খান বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। বাংলায় সুবাদারদের তালিকা- […]
শাহজাহান ও আলমগীরের শাসনামল- মুগল সাম্রাজ্যের ইতিবৃত্ত (৩য় পর্ব)

কার শাসনামলকে মুগল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ বলা হয়? শাহজাহানের শাসনামল শাহজাহান : জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর যুবরাজ খুররম নানা বাধা অতিক্রম করে ১৬২৮ সালে শাহজাহান নাম ধারণ করে মুগল সিংহাসনে বসেন। একজন জনপ্রিয় সম্রাটরূপে তিনি ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করেন। স্থাপত্য শিল্পের জন্য তাঁর শাসনামল মুগল ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত। সেনাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর আমলে […]
আকবর ও জাহাঙ্গীরের শাসনামল- মুগল সাম্রাজ্যের ইতিবৃত্ত (২য় পর্ব)

আকবরের শাসনামল কেন ইতিহাসে বিখ্যাত? আকবরের সিংহাসন আরোহণকালে রাজনৈতিক অবস্থা – আকবর যখন সিংহাসনে বসে, তখন মুঘল সাম্রাজ্য পাঞ্জাব, দিল্লি ও আগ্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শেরশাহের উত্তরাধিকারীদের সময় থেকে ভারতে অনেক স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। হুমায়ুন সাম্রাজ্যকে সুসংহত করার সময় পায়নি। এ সময়ে দিল্লির সিংহাসনের প্রতি তিনজন নরপতির দৃষ্টি ছিল। ১. আদিল শাহের সেনাপতি […]
দিল্লীতে শূর বংশের শাসন (১৫৪০-১৫৫৫)

শেরশাহের পরিচয় কী? শেরশাহের কৃতিত্ব? শেরশাহ কীভাবে দিল্লির ক্ষমতায় বসে? শেরশাহের বাল্যনাম ফরিদ। নিজ প্রতিভা ও নিষ্ঠার কারণে সামান্য একজন জায়গীর থেকে দিল্লীর বাদশাহ হয়েছিলেন। তাঁর জন্ম ১৪৭২ সালে। পিতা হাসান শূরের জীবদ্দশায় শেরশাহ সাসারামের জায়গীরের শাসনভার গ্রহণ করেন। তাঁর ২১ বছরের শাসনামলে সাসারামের ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। এতে তাঁর বিমাতা ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে সাসারাম ত্যাগ […]
বাবর ও হুমায়ুনের শাসনামল- মুগল সাম্রাজ্যের ইতিবৃত্ত (১ম পর্ব)

ভারতবর্ষে মুগলদের ক্ষমতারোহণ মুঘল কারা? কোথা থেকে এসেছে? মুঘলদের পরিচয় : মুঘল কথাটি এসেছে ‘মোঙ্গল’ শব্দ থেকে যার অর্থ নির্ভীক। এদের আদি নিবাস ছিল বর্তমান মঙ্গোলিয়ায়। এরা বহু দলে উপদলে বিভক্ত ছিল। মোগল নেতা তেমুচিন সব মুঘলকে একত্র করে তাতার জাতিকে পরাজিত করে মধ্য এশিয়ায় একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য তেমুচিনকে পরবর্তীতে ‘চেঙ্গিস […]
কররানি বংশের শাসন (১৫৬৩-১৫৭৬)- বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস (৮ম পর্ব)

কররানিরা কীভাবে বাংলার ক্ষমতায় বসে? কররানিরা মূলত পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনওয়া ও পূর্ব আফগানিস্তানের অধিবাসী। এরা পাঠান জাতির একটি অংশ। শেরশাহের অনেক কর্মচারী কররানি বংশের ছিল। তাজ খান ও সুলায়মান খান শেরশাহের সেনাপতি ছিলেন। কনৌজের যুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শেরশাহ তাদেরকে দক্ষিণ বিহারে জায়গীর প্রদান করেন। আদিল শাহের সময় তিনি পালিয়ে যান এবং ভাইদের সহায়তায় দক্ষিণ বিহারে […]
বাংলা শূর বংশের শাসন (১৫৩৮-১৫৬৩)- বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস (৭ম পর্ব)

মুঘলদের পরাজিত করে শেরশাহের ক্ষমতারোহণ বাংলায় আফগান শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শেরশাহ শূরি। উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার ও বাংলার দখল নিয়ে তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ছিলেন বিহারের সাসারম অঞ্চলের জায়গীরদার। পরবর্তীতে তিনি দিল্লী, আগ্রা দখল করেন। চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশ শেরশাহের সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। শেরখান ১৫৩৮ সালে এপ্রিলে […]
হুসাইন শাহী বংশের শাসন (১৪৯৩-১৫৩৮)- বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস (৬ষ্ঠ পর্ব)

বাংলার ক্ষমতাশীল হুসাইন শাহী বংশের শাসন বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে হাবশি শাসনামল একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। হাবশি শাসন উৎখাত করে আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ গৌড়ের সিংহাসনে বসলে হুসাইন শাহী বংশের শাসনের সূচনা ঘটে। এই সময় দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সামরিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছিল। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ফলে বাংলায় নবজাগরণের সূচনা […]
রাজা গণেশের শাসনামল- বঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস (৫ম পর্ব)

রাজা গণেশ কীভাবে ক্ষমতায় আসেন? ইলিয়াস শাহী বংশের শেষ পর্যায়ে বাংলার ইতিহাসে রাজা গণেশের আবির্ভাব ঘটে। বাংলার ইতিহাসে এই আটাশ বছর (১৪১৪-১৪৪২) মুসলিম শাসনের বিরতিকাল। সুদীর্ঘ দুই শতকের অধিক সময় পর্যন্ত মুসলিম শাসন অব্যাহত থাকার পর বঙ্গে হিন্দু রাজত্বের পুনরুত্থান সত্যি এক বিস্ময়কর ব্যাপার। গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বের শেষ দিকে রাজদরবারে যে সকল অমাত্য প্রভাবশালী […]